রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে অনুষ্ঠিত শুনানিতে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে সহ-আসামি স্বপ্না আক্তার নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, শুনানির সময় বিচারক মামলার অভিযোগ ও সাক্ষীদের দেওয়া জবানবন্দি দুই আসামির সামনে উপস্থাপন করেন এবং তাদের বক্তব্য জানতে চান।
এ সময় সোহেল রানা আদালতের কাছে নিজের বক্তব্য তুলে ধরে ক্ষমা চান এবং পরিবারের বিষয়টিও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে নির্দোষ বলে দাবি করেন। পরে স্বপ্না আক্তার আদালতকে জানান, তিনি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন এবং মুক্তি প্রার্থনা করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, আসামিদের এ ধরনের বক্তব্য বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত বা দীর্ঘায়িত করার কৌশল হতে পারে। রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী জানান, আসামিদের পক্ষে নতুন কোনো সাফাই সাক্ষী উপস্থাপন করা হবে না। শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষ আগামী বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য সময় চেয়ে আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
এর আগে মামলাটিতে নিহত শিশুর পরিবারের সদস্য, স্বজন, প্রতিবেশী, প্রত্যক্ষদর্শী এবং তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৬ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানির দিন নির্ধারণ করেছিলেন। উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করে। মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।