ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। এ ঘটনাকে দেশটির আইনসভায় যুদ্ধনীতি নিয়ে বাড়তে থাকা মতবিরোধের স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনে পাস হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন সদস্য নিজ দলের অবস্থানের বাইরে গিয়ে বিরোধী সদস্যদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সমালোচকদের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক পদক্ষেপের জন্য আইনসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেওয়া হয়নি। ফলে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে আনতেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি কার্যকর হতে হলে এখনও উচ্চকক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপ্রধান চাইলে এতে ভেটোও দিতে পারেন।
ভোট শেষে কয়েকজন আইনপ্রণেতা বলেন, যুদ্ধ ঘোষণা করার সাংবিধানিক অধিকার আইনসভার হাতে থাকা উচিত এবং সেই ক্ষমতা সংরক্ষণ করা জরুরি। তাদের মতে, দেশের সংবিধান যে ভারসাম্য নির্ধারণ করেছে, তা রক্ষা করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের নেতারা এই ভোটকে সামরিক সংঘাতের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলমান থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের খবরও সামনে এসেছে। তবে প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, সংঘাত নিরসনে আলোচনা ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে এবং অচিরেই একটি সমঝোতা চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। তার মতে, সামরিক সংঘাত দীর্ঘায়িত না করে আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের সমাধান সম্ভব। প্রশাসনের বেশিরভাগ সদস্যও দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সূত্র: বিবিসি