হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের পাঠানো ড্রোন ভূপাতিত করার পর উপকূলীয় নজরদারি ও রাডার স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চলমান সংঘাতের মধ্যে এই ঘটনাকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, হরমুজ প্রণালির দিকে পাঠানো চারটি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়। এরপর ইরানের উপকূলীয় দ্বীপাঞ্চলে অবস্থিত কয়েকটি নজরদারি ও রাডার স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এদিকে কয়েক মাস ধরে চলমান সংঘাত বন্ধে দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সম্ভাব্য একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার প্রচেষ্টা চললেও এখনো কোনো চূড়ান্ত অগ্রগতি হয়নি।
জানা গেছে, তেহরান আলোচনায় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল, তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত বাধা কমানো, বন্দরসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতার বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দেশটির হাতে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র মজুত রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ইরানের নেতৃত্ব দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাচ্ছে না কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তেহরানের সময় লাগছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল লেবাননেও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এর জবাবে বিভিন্ন এলাকায় বিমান অভিযান চালানোর খবর পাওয়া গেছে।
ইরান জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার না হলে অঞ্চলজুড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে স্বাভাবিক নৌচলাচল পুনরুদ্ধারের বিষয়টিকেও তারা আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে দেখছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও হরমুজ প্রণালি, লেবানন, গাজা ও অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ এলাকায় নতুন নতুন সামরিক ঘটনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে।