বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক নীতি ও আসন্ন বাজেট পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৫২ হাজার

সাড়ে ৮ লাখ কোটি টাকার ছায়া বাজেট প্রকাশ করল এনসিপি

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৬ জুন ২০২৬, দুপুর ১০:১৯ সময় , আপডেট সময় : ৬ জুন ২০২৬, দুপুর ১০:১৯ সময়

বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক নীতি ও আসন্ন বাজেট পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকার একটি বিকল্প ‘ছায়া বাজেট’ ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। “বাংলাদেশ ২.০: সংস্কার, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি” শীর্ষক এই ছায়া বাজেটে ১২টি প্রধান খাতে মোট ৭১টি নীতিগত প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে। দলটির দাবি, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব হবে।


শুক্রবার রাজধানীর বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ছায়া বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এতে বাজেট কমিটির প্রধান ও সংসদ সদস্য আতিক মুজাহিদ বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন। প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা, যেখানে পরিচালনসহ মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা। ঘাটতি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৯ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


এনসিপির পরিকল্পনায় কর-জিডিপি অনুপাত বর্তমান ৬ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে চার বছরের মধ্যে ১৩ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য কর নেট সম্প্রসারণ, তথ্যভিত্তিক কর শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল ডাটাবেস একীভূত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ছায়া বাজেটে বলা হয়, টিআইএন, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিং তথ্য একীভূত করা হবে কর ফাঁকি রোধে। পাশাপাশি নতুন ৮০ লাখ করদাতা যুক্ত করে বড় অঙ্কের রাজস্ব বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।


সম্পদ কর ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট সীমার ওপরে সম্পদের ওপর ধাপে ধাপে করহার নির্ধারণ করা হয়েছে। আয়কর কাঠামোয় পরিবর্তন এনে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো এবং স্ল্যাবভিত্তিক নতুন করহার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহারকে কর শনাক্তকরণের মানদণ্ড হিসেবে যুক্ত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে, যার আওতায় নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বাধ্যতামূলক রিটার্ন দাখিল করতে হবে।


শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে বড় ধরনের বরাদ্দ বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে ছায়া বাজেটে। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। এনসিপির দাবি, এই বাজেট বাস্তবায়িত হলে আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে এবং মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা যাবে।


সংবাদ সম্মেলনে দলটির নেতারা বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনীতি লুটপাটনির্ভর কাঠামোর মধ্যে রয়েছে, যা সংস্কার ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই একটি বাস্তবভিত্তিক, ন্যায়ভিত্তিক ও উৎপাদনমুখী অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯