ইরানের সঙ্গে স্থায়ী সমঝোতা অর্জনে সময় লাগছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। তার মতে, তেহরান এখনো নিজেদের অবস্থানে দৃঢ় এবং আত্মবিশ্বাসী থাকলেও শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে এসে সমঝোতায় পৌঁছানো ছাড়া তাদের সামনে অন্য কোনো পথ থাকবে না।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের বিরোধ ও অবিশ্বাসের কারণে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি দ্রুত সম্ভব হচ্ছে না। ইরানের নেতৃত্বকে তিনি শক্ত অবস্থানে থাকা এবং নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় বলে উল্লেখ করেন। তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের আশপাশে সংঘটিত পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাগুলো নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবুও উভয় পক্ষ সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে ইরানের সামরিক অবকাঠামো উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। তার ভাষ্যমতে, বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের আঘাত হানা হয়েছে। তবে ইরানের হাতে এখনো কিছু সামরিক সক্ষমতা অবশিষ্ট রয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন। তিনি আরও বলেন, কয়েক মাস ধরে চলমান উত্তেজনার দ্রুত অবসান কাম্য হলেও কয়েক দশকের পুরোনো বৈরিতা রাতারাতি শেষ করা সম্ভব নয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য ধৈর্য, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং পারস্পরিক সমঝোতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার দাবি, সামরিক পদক্ষেপের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখা। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না এলে বিকল্প পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পারমাণবিক ইস্যুতে মতপার্থক্য দূর না হলে স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো সহজ হবে না।