দেশের রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক সংস্কারের প্রধান ধাপ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ। তার মতে, এখন মূল লক্ষ্য হবে সেই পরিবর্তনগুলোকে সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সংবিধানের মৌলিক রূপান্তরের কাজ শেষ হয়েছে এবং এখন নির্দিষ্ট বিষয়গুলো আইনি ভিত্তি দেওয়ার জন্য সংশোধন আনা হবে। তিনি জানান, এ প্রক্রিয়ায় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দলকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
চিফ হুইপ বলেন, সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে একটি সর্বদলীয় বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই কাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তিনি আরও বলেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও সরকার এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। বরং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ে সব পক্ষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সমন্বিত প্রক্রিয়ায় এগোতে চায়।
সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমঝোতা ও জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত বিভিন্ন প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য সাংবিধানিক পরিবর্তন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এসব বিষয়ে সংসদে ব্যাপক সমর্থন রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের মৌলিক নীতি ও মৌলিক অধিকারের মতো কিছু বিষয় অপরিবর্তনীয় চরিত্র ধারণ করে। এসবের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো পরিবর্তন আনা হলে তা বিচারিক পর্যালোচনার মুখে পড়তে পারে। তিনি এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের সাংবিধানিক ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য অর্জন এবং সব রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।