১৯৭২ সালের সংবিধানকে ঘিরে সমাজে অতিরঞ্জিত আলোচনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তার মতে, কোনো সংবিধানই সম্পূর্ণ নির্ভুল নয় এবং রাষ্ট্রের সাফল্য বা ব্যর্থতার একমাত্র কারণও সংবিধান হতে পারে না। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানকে কেউ চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখেন, আবার কেউ একে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করতে চান। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিশ্বের কোনো সংবিধানই ত্রুটিমুক্ত নয়।
তিনি বলেন, প্রতিটি সংবিধানের মধ্যেই ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিক থাকে। একই সঙ্গে সংবিধান নিজে কোনো অপরাধ বা ব্যর্থতার জন্য দায়ী নয়; বরং তার প্রয়োগ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, প্রতিষ্ঠান এবং নেতৃত্বের ভূমিকা রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, একই সাংবিধানিক কাঠামোর অধীনে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ধরনের শাসনব্যবস্থা ও নেতৃত্ব দেখা গেছে। আবার কোথাও লিখিত সংবিধান না থাকলেও কার্যকর শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে।
আসিফ নজরুলের মতে, ১৯৭২ সালের সংবিধান এবং রাষ্ট্রগঠনে এর ভূমিকা নিয়ে আবেগনির্ভর নয়, বরং তথ্যভিত্তিক ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন প্রয়োজন। এজন্য সংবিধান প্রণয়নের সময়কার রাজনৈতিক বাস্তবতা, গণপরিষদের বিতর্ক এবং রাষ্ট্রচিন্তার প্রেক্ষাপট বোঝা জরুরি। তিনি আরও বলেন, এই বিষয়গুলো বিশ্লেষণের উদ্দেশ্যেই তিনি ‘সংবিধান বিতর্ক ১৯৭২’ নামে একটি বই রচনা করেছিলেন। বইটির একাধিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে এবং পাঠকদের আগ্রহ তাকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছে।