মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ আহ্বানের পর সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটছে ইরান ও ইসরায়েল। তবে পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত

ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে সাময়িক হামলা বন্ধের ঘোষণা

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৯ জুন ২০২৬, সকাল ৯:৪১ সময় , আপডেট সময় : ৯ জুন ২০২৬, সকাল ৯:৪১ সময়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ আহ্বানের পর সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটছে ইরান ও ইসরায়েল। তবে পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত নাজুক। কারণ তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি অভিযান চলতে থাকলে তারা আবারও সামরিক প্রতিক্রিয়া শুরু করবে। সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই উত্তেজনার প্রভাব পড়ে বিশ্ববাজারেও। এক পর্যায়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রায় পাঁচ শতাংশ বেড়ে যায়। তবে ইরান প্রথম দফার সামরিক অভিযান শেষ হওয়ার ঘোষণা দিলে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে এবং তেলের দাম কমতে শুরু করে।


ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে, তেহরান যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তেল আবিবও নতুন করে হামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও উভয় পক্ষের অবস্থান এখনও সতর্কতাপূর্ণ। ঘটনার সূত্রপাত হয় লেবাননের বৈরুতের উপকণ্ঠে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর অবস্থানে ইসরায়েলি হামলার পর। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। জবাবে ইসরায়েল ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়।


পরে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি শিল্প স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানে। যদিও এসব হামলায় বড় ধরনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলেছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, উভয় পক্ষই এখন স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে আগ্রহী এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।


এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরান বা হিজবুল্লাহর সঙ্গে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়ালে ইসরায়েলকে হয়তো একাই সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হতে পারে। অন্যদিকে ইরানও কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুত এবং প্রয়োজন হলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।


পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘও। সংস্থাটির মহাসচিব সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সময়ে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীও সংঘাতে নিজেদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আপাতত যুদ্ধবিরতির পরিবেশ তৈরি হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি শেষ হয়নি। লেবানন, হিজবুল্লাহ, হরমুজ প্রণালী এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে বিরোধ এখনও বহাল রয়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে এখন নজর রয়েছে—এই সাময়িক শান্তি শেষ পর্যন্ত স্থায়ী সমাধানের দিকে এগোয়, নাকি অঞ্চলটি আবারও নতুন সংঘাতের দিকে ধাবিত হয়।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯