ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ৫ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মঙ্গলবার সকালে অনুভূত হওয়া এই ভূকম্পনে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সারগাজের নিকটবর্তী হরমুজগান ও কারমান প্রদেশের সীমান্তবর্তী এলাকা। হঠাৎ কম্পনে অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ও কর্মস্থল ছেড়ে নিরাপদ স্থানে ছুটে যান।
ভূমিকম্পের পরপরই স্থানীয় প্রশাসন, জরুরি সেবা বিভাগ এবং উদ্ধারকারী দলগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শুরু করে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণে তারা কাজ করছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে ইরানে এই ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি সীমিত থাকলেও, এশিয়ার আরেক দেশ ফিলিপাইনে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে এনেছে শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প।
গতকাল দেশটিতে আঘাত হানে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এতে অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েকশ মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন উদ্ধারকর্মীরা। স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানার সময় অধিকাংশ মানুষ কর্মস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে অবস্থান করছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে শুরু হয় তীব্র কম্পন, যা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বহু ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক স্থাপনাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের তীব্রতায় ভবনগুলো দুলতে শুরু করে এবং অনেক স্থাপনা মুহূর্তেই ধসে পড়ে। আতঙ্কিত মানুষ জীবন বাঁচাতে রাস্তায় নেমে আসেন। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জোরদার উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, চিকিৎসা দল এবং স্বেচ্ছাসেবীরা একযোগে কাজ করছেন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থান করায় ফিলিপাইন প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্পের মুখোমুখি হয়। তবে এবারের ভূমিকম্প সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বানও জানানো হয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র জানা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।