কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (১) আদালতের বিচারক মুমিনুল হক এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলায় যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তারা হলেন তৎকালীন কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ এবং সৈনিক শাহীন আলম। মামলার নথি অনুযায়ী, ঘটনার সময় জাহিদ কুমিল্লা সেনানিবাসের ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার গড়ঘাটা এলাকায়। নিহত তনুর পরিবারের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। বর্তমানে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত বা অবসরে পাঠানো হয়েছেন বলে জানা গেছে।
অপর আসামি শাহীন আলম ঘটনার সময় ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে। সূত্র অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং তিনিও অবসরপ্রাপ্ত বা অবসরে পাঠানো হয়েছেন। আদালত সূত্রে আরও জানা যায়, তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম আদালতে আবেদন করে এই দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারির অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য সেনাবাহিনীর কাছ থেকে সংগ্রহের অনুমতিও চাওয়া হয়।
তবে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আদালতের আদেশ সম্পর্কে তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন। এদিকে মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি ২০২৩ সালে অবসরে যান এবং গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন।
তদন্তে নতুন অগ্রগতি হিসেবে জানা গেছে, তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনা বিশ্লেষণে চারজনের ডিএনএ মিল পাওয়া গেছে। এর আগে তিনজনের সম্পৃক্ততার তথ্য জানা গেলেও এবার আরও একজনের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে বলে তদন্ত সূত্রে জানানো হয়। প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের ভেতর ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং দীর্ঘদিন ধরে মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।