ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া শত শত মানুষ আহত হয়েছেন এবং কয়েকজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মঙ্গলবার দেশটির জাতীয় ও স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, ৭ দশমিক ৮ মাত্রার এই ভূমিকম্পে অন্তত ৪৭৯ জন আহত হয়েছেন এবং চারজনের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামি আতঙ্ক ও ধারাবাহিক পরাঘাতের কারণে প্রায় ৮৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২২ হাজারেরও বেশি মানুষ বাড়িঘর হারিয়ে আশ্রয়কেন্দ্র ও খোলা স্থানে অবস্থান করছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সারঙ্গানি প্রদেশ। সেখানে সড়ক ধসে যাওয়া এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেঙে পড়ায় অনেক এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্গম এলাকাগুলোতে বর্তমানে কেবল আকাশপথে ত্রাণ ও উদ্ধারসামগ্রী পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে।
উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, প্রধান কম্পনের পর থেকে অসংখ্য ছোট ছোট পরাঘাত অব্যাহত থাকায় উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হচ্ছে। ফলে অনেক এলাকায় উদ্ধারকাজের গতি কিছুটা ধীর হয়ে পড়েছে। এদিকে দুর্যোগের মধ্যেও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত দেখা গেছে জেনারেল সান্তোস শহরে। হাসপাতাল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় খোলা মাঠে তাবু টাঙিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতেই এক মা সুস্থ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।
গ্লান এলাকায় পাহাড়ধসে বহু মানুষ মাটিচাপা পড়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। এছাড়া একটি হাসপাতালের রোগীদেরও খোলা মাঠে সরিয়ে নিতে হয়েছে, কারণ ভবনটিকে ব্যবহারের অনুপযোগী ঘোষণা করা হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্যোগে শত শত কোটি পেসোর অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। বহু সড়ক, সেতু, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় দুই হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
শিক্ষা খাতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক হাজারের বেশি শ্রেণিকক্ষ আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে বলে প্রাথমিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে। এদিকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ততই কমে আসছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। ভূমিকম্পের পর ফিলিপাইন ও প্রতিবেশী অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড