ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সীমান্ত সম্মেলনে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সীমান্ত হত্যা, পুশইন, চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণসহ একাধিক ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। মঙ্গলবার শুরু হওয়া মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। অপরদিকে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন প্রবীণ কুমার।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সীমান্তে প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে সীমান্তে পুশইনের অভিযোগ, বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিষয় এবং সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বাংলাদেশ আরও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধ, মানবপাচার বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তের নির্ধারিত এলাকার মধ্যে অননুমোদিত স্থাপনা নির্মাণ বন্ধের দাবি তোলে। সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে সাম্প্রতিক উদ্বেগও আলোচনায় উঠে আসে। এ ছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ স্থাপন, আন্তঃসীমান্ত নদীর তীর সংরক্ষণ, সীমান্ত পিলার নির্মাণ, অবৈধ ড্রোন ও হেলিকপ্টার উড্ডয়ন বন্ধ এবং দুই দেশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান জোরদারের প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়।
অন্যদিকে ভারতের পক্ষ থেকে সীমান্তে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় নাগরিকদের ওপর হামলা বন্ধে সহযোগিতা চাওয়া হয়। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়। সীমান্ত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে আরও সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করে ভারতীয় প্রতিনিধিদল। বৈঠকে উভয় পক্ষ সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বলে জানা গেছে।