উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দামের চাপে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীরাও যখন আর্থিক সংকটে রয়েছেন, তখন

পে-স্কেলে পরিবর্তন হচ্ছে মূল বেতন, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডে কত?

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১০ জুন ২০২৬, দুপুর ৩:৪ সময় , আপডেট সময় : ১০ জুন ২০২৬, দুপুর ৩:৪ সময়

উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দামের চাপে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীরাও যখন আর্থিক সংকটে রয়েছেন, তখন তাদের জন্য বড় স্বস্তির বার্তা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর বহুল আলোচিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।


অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি জুন মাসের মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামোর সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে নতুন বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।


প্রস্তাবিত কাঠামোয় বর্তমানের ২০টি বেতন স্তর বহাল থাকলেও মূল বেতনের অঙ্কে বড় ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। সর্বনিম্ন স্তরের বেতন বর্তমানের ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ স্তরের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এই পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতির প্রভাব মোকাবিলায় কিছুটা সহায়ক হবে।


তবে সরকারের হিসাব অনুযায়ী, কমিশনের সব সুপারিশ একসঙ্গে কার্যকর করতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। সেই কারণে অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও রাজস্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে আগামী ১ জুলাই থেকে মূল বেতন প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হতে পারে। এরপর অবশিষ্ট অংশ পরবর্তী দুই বছরে পর্যায়ক্রমে সমন্বয় করার চিন্তা রয়েছে, যাতে রাষ্ট্রীয় অর্থভাণ্ডারের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।


নতুন বেতন কাঠামোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্তি। দেশের প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে তাদের পেনশন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে, যা প্রবীণদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, সরকারি কর্মচারীদের একটি অংশ ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিবর্তে একবারেই পূর্ণাঙ্গভাবে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাস্তবতায় আংশিক বৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি দিতে পারবে না।


অর্থনীতিবিদদের অভিমত, নতুন বেতন কাঠামো চালু হলে সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে এবং বাজারে ভোগব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে। তবে একই সঙ্গে সরকারের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে, যা রাজস্ব ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। এদিকে এখনো পর্যন্ত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো কিংবা এ সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট মহলে আগ্রহ ও প্রত্যাশা থাকলেও চূড়ান্ত ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯