বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে নামার আগেই নিজের সাফল্যের মুকুটে আরও একটি পালক যোগ করলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। প্রস্তুতি ম্যাচে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করে জাতীয় দলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার নতুন রেকর্ড গড়েছেন বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এই তারকা। যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আইসল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হারায় আর্জেন্টিনা। তবে শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন না মেসি। সামান্য হ্যামস্ট্রিং সমস্যার কারণে তাকে বিশ্রামে রাখা হয়েছিল এবং দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয়।
৬৯তম মিনিটে মাঠে নামার সময় প্রায় ৮৮ হাজার দর্শকের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। মাঠে নেমেই আক্রমণে প্রাণ ফেরান তিনি। তার তৈরি করা আক্রমণ থেকে প্রতিপক্ষের বক্সে ফাউলের শিকার হন লাউতারো মার্তিনেজ। এরপর ৭১তম মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে গোল করে জাতীয় দলের হয়ে নিজের গোলসংখ্যা ১১৭-তে উন্নীত করেন মেসি।
এই গোলের মাধ্যমে ৩৮ বছর ১১ মাস ১৮ দিন বয়সে আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি। এতদিন এই কীর্তির মালিক ছিলেন কিংবদন্তি আনহেল আমাদেও লাব্রুনা, যিনি ১৯৫৭ সালে ৩৮ বছর ৯ মাস ১০ দিন বয়সে ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল করেছিলেন। প্রায় সাত দশক ধরে অক্ষত থাকা সেই রেকর্ড এবার ভেঙে দিলেন মেসি। জাতীয় দলের হয়ে এটি ছিল মেসির ১৯৯তম ম্যাচ। একই সঙ্গে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবেও নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছেন তিনি। বর্তমানে তার আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা ১১৭, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার ৫৫ গোলের তুলনায় অনেক বেশি।
আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও ইতোমধ্যে মেসির দখলে রয়েছে। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামলেই তিনি আকাশি-সাদা জার্সিতে ২০০ ম্যাচ খেলার বিরল মাইলফলক স্পর্শ করবেন, যা দেশটির ফুটবল ইতিহাসে প্রথম। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রথম গোলটি করেন ভালেনতিন বার্কো। অষ্টম মিনিটেই দলকে এগিয়ে দেন তিনি। এরপর মেসির পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ে। ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে মেসির তৈরি করা আরেকটি আক্রমণ থেকে রদ্রিগো দে পলের পাস পেয়ে তৃতীয় গোল করেন তরুণ মিডফিল্ডার থিয়াগো আলমাদা।
তবে জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি বয়সে মাঠে নামার রেকর্ড এখনও আনহেল আমাদেও লাব্রুনার দখলে রয়েছে। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে ৩৯ বছর ৮ মাস ১৬ দিন বয়সে তিনি মাঠে নেমেছিলেন। এবারের বিশ্বকাপ চলাকালীন মেসির বয়স ৩৯ বছরে পৌঁছালেও সেই রেকর্ড ভাঙতে হলে তাকে বিশ্বকাপের পরও জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যেতে হবে। অন্যদিকে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার রেকর্ড এখনো সাবেক তারকা মার্টিন পালের্মোর দখলে। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে গ্রিসের বিপক্ষে ৩৬ বছর ৭ মাস ১৫ দিন বয়সে তিনি গোল করেছিলেন। এবার সেই রেকর্ডও স্পর্শ করার সুযোগ থাকছে মেসির সামনে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রস্তুতি ম্যাচের জয় এবং অধিনায়কের এই নতুন কীর্তি আর্জেন্টিনা শিবিরে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে দলটি আগামী ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে, আর সেই মঞ্চেও নজরের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন লিওনেল মেসি।