ফুটবলে নান্দনিকতার জন্য পরিচিত ব্রাজিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মাঠের চরম বিশৃঙ্খলা ও একের পর এক লাল কার্ডের ঘটনায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে দলটির নারী ফুটবল দল। ১-০ গোলের পরাজয়ের পাশাপাশি ম্যাচে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ মিলিয়ে ব্রাজিলের আটজন সদস্য লাল কার্ড দেখেন। ফোর্তালেজায় অনুষ্ঠিত ম্যাচটি শেষ হয় উত্তেজনা ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, খেলা শেষে মাঠে পুলিশ মোতায়েন করতে হয়। শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল মাত্র নয়জন খেলোয়াড় নিয়ে ম্যাচ শেষ করে।
ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে আত্মঘাতী থেকে। ব্রাজিলের ডিফেন্ডার ইসাবেলা চাগাসের ভুলে হওয়া আত্মঘাতী গোলেই জয় পায় যুক্তরাষ্ট্র। শুরুর দিক থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা লক্ষ্য করা যায়। সুন্দর ফুটবলের বদলে শারীরিক সংঘর্ষ ও তর্ক-বিতর্কই বেশি দেখা যায় মাঠে। ম্যাচের শেষদিকে পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে ব্রাজিলের খেলোয়াড় ও স্টাফদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেন ম্যাচ কর্মকর্তা।
ব্রাজিলের প্রধান কোচ আর্থার এলিয়াস প্রথমার্ধে জার্সির রঙ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন। পরে ৭৭তম মিনিটে বল দূরে লাথি মারায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেয়ে বহিষ্কৃত হন। তার সঙ্গে দলের আরও তিনজন স্টাফও লাল কার্ড দেখেন। অতিরিক্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের এমিলি সনেটকে ধাক্কা দেওয়ায় ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড বিআ জেনেরাত্তো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়েন। এরপর তারসিয়ানে প্রতিপক্ষের সোফিয়া উইলসনকে কনুই দিয়ে আঘাত করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন।
ম্যাচ শেষে রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়ানোর অভিযোগে ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড কেরোলিনকেও বহিষ্কার করা হয়। একইভাবে বিদ্রূপাত্মকভাবে হাততালি দেওয়ার কারণে লুদমিলাকেও লাল কার্ড দেখানো হয়। খেলা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কোচ এমা হায়েস বলেন, ব্রাজিলের প্রতি তার যথেষ্ট সম্মান রয়েছে এবং এমন অভিজ্ঞতা তিনি আগে কখনও দেখেননি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিডফিল্ডার লিন্ডসে হেপস আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছরে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিতব্য নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে না। উল্লেখ্য, এই ম্যাচের আগে অনুষ্ঠিত প্রথম প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিল ২-১ গোলে যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করেছিল।