চট্টগ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এক পুত্র তার বাবাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। প্রায় দুই বছর পর বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন হওয়া মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে সংস্থাটি। নিহত ব্যক্তি ফটিকছড়ি উপজেলার বাসিন্দা মীর মজিবুর রহমান খান (৬০)। তিনি পেশায় বাবুর্চি ছিলেন। গত সোমবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। খবরটি প্রকাশিত হয় দৈনিক ইত্তেফাক-এ।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৬ জুন মীর মজিবুর রহমান চট্টগ্রাম নগরের আন্দরকিল্লায় মেয়ের বাসায় বেড়াতে আসেন। পরদিন সকালে এক নারীর ফোন পেয়ে বাঁশখালী যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় প্রথমে তাঁর মেয়ে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে আদালতে অপহরণের অভিযোগে মামলা হয়। পরবর্তীতে তদন্তভার নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। তদন্তে অগ্রগতির পর ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ঘটনাটিকে অপহরণ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। পরে গত ১৩ জুন কর্ণফুলী থানার মইজ্জারটেক এলাকা থেকে নিহতের ছেলে বেলাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে তদন্তকারীরা জানান।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ঘটনার সময় হালিশহর থানা এলাকায় উদ্ধার হওয়া একটি অজ্ঞাত মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছিল। পরে যাচাই-বাছাই শেষে সেই মরদেহই মীর মজিবুর রহমানের বলে নিশ্চিত করে তদন্ত সংস্থা। এরপর মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় বেলালের সহযোগী আব্দুল জলিলকে। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বেলাল।
তদন্ত অনুযায়ী, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ছেলে বেলাল হোসেন। তিনি ধারণা করতেন, বাবা তাকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করছেন এবং বাকি জমিও বিক্রি করে দিতে পারেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি এক নারীর মাধ্যমে বাবার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেন। ঘটনার দিন ওই নারী নগরের বাকলিয়া এলাকায় মীর মজিবুর রহমানকে ডেকে নেন। সেখানে শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাকে অচেতন করা হয়। পরে বেলাল ও তার সহযোগী আব্দুল জলিল তাকে হালিশহর এলাকায় নিয়ে গিয়ে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ একটি নির্জন স্থানে ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।