২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্স দেখালেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে দলকে ৩-০ ব্যবধানে জয় এনে দেন তিনি। ম্যাচে তার অসাধারণ নৈপুণ্যে নতুন একাধিক বিশ্বরেকর্ডও গড়ে ওঠে। তবে ম্যাচ শেষে মেসির চিরচেনা হাসিমুখের আড়ালে দেখা যায় ভিন্ন এক আবেগঘন দৃশ্য। শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন এই আর্জেন্টাইন তারকা। পরে তিনি জানান, ব্যক্তিগত জীবনের একটি কঠিন সময় তাকে মানসিকভাবে প্রভাবিত করেছে।
ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, তিনি গত কয়েক দিন ধরে খুব কঠিন সময় পার করছেন, তবে বিষয়টি ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। সতীর্থ ও দলের সদস্যদের সহায়তায় তিনি সেই পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। পরবর্তীতে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দেন, তার বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগের কারণেই তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন। তার ভাষায়, পরিবারগত এই সমস্যার কারণে তিনি ভেতরে ভেতরে মানসিকভাবে লড়াই করছেন।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘দ্য সান’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, মেসির বাবা হোর্হে মেসি কিছুদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন এবং চলতি বছরের শুরুতে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। হৃদযন্ত্র ও স্নায়ুবিষয়ক পরীক্ষাও করা হয়েছে বলে জানা যায়। হোর্হে মেসি দীর্ঘদিন ধরে শুধু তার অভিভাবকই নন, বরং মেসির ক্যারিয়ারের শুরু থেকে কোচ, পরামর্শদাতা এবং পরবর্তীতে তার পেশাগত ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দুর্দান্ত জয়ের পরও মেসির এই আবেগঘন মুহূর্ত ফুটবল বিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে সাফল্যের আড়ালেও একজন মানুষের ব্যক্তিগত লড়াই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।