রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনকে আরও শক্তিশালী সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সাতটি শিল্পোন্নত দেশ। এর মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত অস্ত্র সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের উপযুক্ত সময় এসেছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে দেশগুলোর নেতারা। বুধবার প্রকাশিত এক সংবাদ অনুযায়ী, ফ্রান্সের এভিয়ান শহরে দুই দিনব্যাপী বৈঠক শেষে একটি যৌথ বিবৃতি দেয় সাত শিল্পোন্নত দেশের নেতারা। সেখানে তারা ইউক্রেনের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার প্রতি তাদের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেন যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, তার প্রশংসা করা হচ্ছে। এই গতি বজায় রাখতে দেশটিকে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক এবং দূরপাল্লার সামরিক সক্ষমতা সরবরাহ করা হবে। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেনকে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ইউরো সমপরিমাণ সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। এর পাশাপাশি আরও প্রায় ৯০ বিলিয়ন ইউরো ঋণ সহায়তা চলতি মাস থেকে দেওয়া শুরু হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মোট সহায়তার পরিমাণ প্রায় ১১৫ বিলিয়ন ইউরো।
যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইউক্রেনের জন্য সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের লাইসেন্স সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত সরবরাহের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছে কিয়েভ। এদিকে রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়াতে তেল ও গ্যাস খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ অনুমোদন করেছে, যার লক্ষ্য তেল বিক্রি ও নৌপথে ব্যবহৃত তথাকথিত ছায়া নৌবহর। যৌথ বিবৃতিতে ইউক্রেনের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। আসন্ন শীতে দেশটিকে সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়, কারণ রাশিয়া সাধারণত শীতকালে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়।