ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণকে ঘিরে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) বাজেট আলোচনার সময় বিষয়টি নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দিন খান তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনৈতিক ঘটনা ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর এই মন্তব্যের পরপরই বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য এম মাহবুবউদ্দিন খোকন তীব্র আপত্তি জানান এবং বক্তব্যটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তোলেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে অধিবেশনে সভাপতিত্ব করা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল প্রাথমিকভাবে ওই অংশটি আপত্তিকর হিসেবে বিবেচনা করে রেকর্ড থেকে এক্সপাঞ্জ করার নির্দেশ দেন। তবে পরে বিষয়টি নিয়ে সংসদে আরও কয়েক দফা বিতর্ক চলতে থাকে। জামায়াতের হুইপ রফিকুল ইসলাম খান স্পিকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেন, কোনো বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার আগে তার সত্যতা ও প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা প্রয়োজন। পরে আবার বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তাজউদ্দিন খান গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর ও পুলিশের উদ্ধৃতি উল্লেখ করেন এবং বিভিন্ন ঘটনার তথ্য তুলে ধরেন।
অন্যদিকে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ফ্যামিলি কার্ড সরকারের একটি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ এবং এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার প্রতীক। পরে তিনি জানান, নির্দিষ্ট তথ্য ও মামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দেওয়া বক্তব্যের অংশ সংসদের রেকর্ডে বহাল থাকবে। মাগরিবের বিরতির পরও বিষয়টি নিয়ে পুনরায় আলোচনার চেষ্টা করা হলেও ডেপুটি স্পিকার রুলিং দিয়ে জানান, বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষের মধ্যে সংসদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।