গ্রেফতারকৃত আসামির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির অনুলিপি আসামি পক্ষকে দেওয়া হবে কি না—এ প্রশ্ন ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলমান একটি মামলা উচ্চ আদালতে নতুন মোড় নিয়েছে। ফৌজদারি হত্যা ও ধর্ষণসহ গুরুতর অপরাধের একটি মামলায় ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দির কপি চেয়ে আসামি পক্ষ আদালতে আবেদন করলে তা নিম্ন আদালত থেকে খারিজ হয়। পরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে, যেখানে বলা হয় তদন্ত চলমান থাকায় এ ধরনের জবানবন্দি প্রকাশ করলে তদন্ত ব্যাহত হতে পারে।
এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করা হলে ২০২১ সালে রুল জারি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ শুনানি হলেও ভিন্ন ভিন্ন বেঞ্চের রায়ের কারণে আইনগত জটিলতা তৈরি হয়। এক পর্যায়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বৃহত্তর বেঞ্চ গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি তিন বিচারপতির সমন্বয়ে বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করেন। বৃহস্পতিবার মামলাটি ওই বেঞ্চে শুনানির জন্য উঠলে আদালত জানায়, মূল মামলার আসামিরা ইতোমধ্যে বিচারিক আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন। ফলে তদন্ত পর্যায়ে জবানবন্দির কপি প্রদান সংক্রান্ত আইনি প্রশ্নটি এখনো প্রাসঙ্গিক কি না—সে বিষয়ে আগে সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
এ কারণে আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য ২৫ জুন তারিখ নির্ধারণ করেছে। আইনজীবীরা জানান, মূলত তদন্ত চলাকালে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির গোপনীয়তা ও আসামি পক্ষের অধিকার—এই দুই দিকের ভারসাম্য নিয়েই বিতর্ক চলছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় জামিন শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ এই জবানবন্দির অস্তিত্ব তুলে ধরে, কিন্তু আসামি পক্ষ তার বিষয়বস্তু জানতে পারে না। ফলে ন্যায্য বিচারের অধিকার ও তদন্তের গোপনীয়তার মধ্যে একটি আইনি দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।