দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির নামে থাকা বিপুল পরিমাণ সম্পদের ওপর আদালতের জব্দাদেশ থাকলেও সেগুলোর বড় অংশ এখনো কার্যকরভাবে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ও বিদেশে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দের নির্দেশ রয়েছে। এর মধ্যে দেশের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। তবে স্থাবর সম্পদের বড় অংশে এখনো রিসিভার নিয়োগ না হওয়ায় আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন পুরোপুরি সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাট, যার মালিকানা ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য টিউলিপ সিদ্দিকের নামে রয়েছে বলে দুদকের নথিতে উল্লেখ আছে, সেটি জব্দের আদেশ থাকলেও এখনো রিসিভারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া যায়নি। একইভাবে সেগুনবাগিচায় শেখ রেহানার নামে থাকা একটি ফ্ল্যাটও দীর্ঘ সময় ধরে কার্যকরভাবে বুঝে নেওয়া সম্ভব হয়নি। দুদকের নথি অনুযায়ী, কয়েক হাজার কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হলেও সেগুলোর বড় অংশের ব্যবস্থাপনা এখনো ঝুলে আছে। ফলে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন উপায়ে এসব সম্পদের সুবিধা ভোগ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
দুদকের কর্মকর্তারা বলছেন, আদালতের আদেশ পাওয়ার পর সম্পদ বুঝে নেওয়া, নথিপত্র সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করতে দীর্ঘ সময় লাগে। পাশাপাশি জনবল সংকটও একটি বড় বাধা। তবে সংস্থাটির সাবেক এক শীর্ষ কর্মকর্তা মনে করেন, শুধু জনবল সংকট নয়, কার্যকর উদ্যোগ ও আন্তরিকতার অভাবও এই ধীরগতির জন্য দায়ী। তার মতে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী রিসিভার নিয়োগ করা হলে সম্পদ থেকে অর্জিত আয় রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা হওয়ার কথা। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ গ্রহণে বিলম্ব হওয়ায় অভিযুক্তরাই এখনো সুবিধা পাচ্ছেন।
এদিকে কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতিও দেখা গেছে। সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পদে রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় তহবিলে অর্থ জমা হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের জব্দাদেশ কার্যকর করতে এবং সম্পদগুলো প্রকৃত অর্থে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনতে দুদককে আরও দ্রুত, সক্রিয় ও কৌশলী পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় জব্দকৃত সম্পদের প্রকৃত সুফল রাষ্ট্র পাবে না।