বিচার প্রশাসনের কার্যক্রমে আরও গতি আনা এবং বিচারিক কার্যক্রমকে কার্যকর করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার ২২ জন বিচারককে বদলি করেছে সরকার। সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। জনস্বার্থে জারি করা ওই আদেশে সংশ্লিষ্ট বিচারকদের আগামী ২৪ জুনের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত তারা নতুন দায়িত্ব পালন করবেন।
নতুন পদায়ন অনুযায়ী, খুলনার বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. আসহারুল ইসলামকে নড়াইলের জেলা ও দায়রা জজ, সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে সুনামগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ এবং নীলফামারীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক প্রিয়া তাসনিম মাহমুদকে নীলফামারীর জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ঢাকার প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-২–এর সদস্য মোহাম্মদ আল মামুনকে কিশোরগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ এবং চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাহিদুল হককে পঞ্চগড়ের জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক কাজী আবুবকর হান্নানকে চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, রংপুরের জেলা ও দায়রা জজ ফজলে মোহাম্মদ নাঈমকে চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং নোয়াখালীর জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ মোসাদ্দেক ইবনে আজিজকে আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও কয়েকজন বিচারককে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আদালত ও ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বি. এম. তৌফিক কবীরকে ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত, মোহা. ইমদাদুল হককে রাজশাহীর মহানগর দায়রা জজ আদালত, এস. এম. আমিনকে সিলেটের স্ট্যাট সার্চ আপিল ট্রাইব্যুনাল এবং মুহাম্মদ সাইফুল মতিন নোমানকে জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন মোহাম্মদ মাসউদুর রহমান, ছায়ানারা ফেরদৌস ও তাসলিম জোহরা। একই সঙ্গে মো. আদিব আলীকে খুলনার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত এবং মো. গোলাম সারোয়ারকে বগুড়ার পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই রদবদলের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রমে দক্ষতা বৃদ্ধি, মামলার জট কমানো এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে আরও সমন্বয় আনার চেষ্টা করা হয়েছে।