দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অনুভূত এই জোড়া ভূকম্পনে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও ধসে পড়েছে। আতঙ্কে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। ভূতাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২। এর মাত্র কয়েক সেকেন্ড পরই আরও শক্তিশালী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি বড় কম্পনের ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক মূল্যায়নে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটতে পারে। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় বড় ধরনের ভূমিধস এবং বিভিন্ন অঞ্চলে মাটির গঠন দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজধানীর বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন ধসে পড়েছে এবং অসংখ্য স্থাপনায় বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। উদ্ধারকারী দল ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে অভিযান শুরু করেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জরুরি তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানীর পাশাপাশি দেশের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েকটি ঐতিহাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে প্রতিবেশী দেশগুলোর কিছু অংশেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের সময় ভবনগুলো প্রবলভাবে দুলতে থাকে এবং অনেকের মনে হয়েছিল যে পুরো ভবন মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে পড়বে। আতঙ্কে মানুষ দ্রুত রাস্তায় নেমে আসে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জাতীয় ছুটির দিনে এই দুর্যোগ আঘাত হানায় অধিকাংশ মানুষ নিজ নিজ বাসভবনে অবস্থান করছিলেন। ফলে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং জনগণকে পরাঘাতের আশঙ্কায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।