স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ব্রাজিল। ৩-০ গোলের এই জয়ে শুধু তিন পয়েন্টই নয়, দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সেও সন্তুষ্ট কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তার মতে, দল ধীরে ধীরে নিজেদের সেরা ছন্দে ফিরছে এবং শিরোপার লড়াইয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়ায় ব্রাজিল কোচ জানান, আগের ম্যাচের ইতিবাচক দিকগুলো ধরে রেখে আরও গোছানো ও নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলাই ছিল তাদের লক্ষ্য। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তার প্রতিফলন দেখা গেছে বলেও মনে করেন তিনি। পুরো ম্যাচে খেলোয়াড়রা পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছেন এবং মাঠের বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন।
আনচেলত্তির মতে, আগের ম্যাচের তুলনায় এই লড়াইয়ে ব্রাজিল আরও সংগঠিত ছিল। আক্রমণ গঠন, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণ থেকে দ্রুত আক্রমণে যাওয়ার ক্ষেত্রে দল অনেক বেশি পরিণত ফুটবল খেলেছে। এ কারণে এই জয়কে তিনি নকআউট পর্বের আগে গুরুত্বপূর্ণ আত্মবিশ্বাসের উৎস হিসেবে দেখছেন। তবে ম্যাচের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় ছিল নেইমারের প্রত্যাবর্তন। প্রায় ৯৮১ দিন পর আবারও জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামেন ব্রাজিলের এই তারকা। দীর্ঘ চোট ও পুনর্বাসনের সময় পার করে দলে ফেরা নেইমারকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বাস দেখা গেছে ব্রাজিল শিবিরে।
আনচেলত্তি মনে করেন, নেইমারের উপস্থিতি শুধু একজন খেলোয়াড়ের ফেরা নয়, বরং পুরো দলের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা। তার অভিজ্ঞতা এবং সৃজনশীলতা আক্রমণভাগকে আরও কার্যকর করে তুলবে। টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলেও বিশ্বাস কোচের। এছাড়া দলের সমন্বয় নিয়েও সন্তুষ্ট আনচেলত্তি। তার মতে, আক্রমণ ও রক্ষণে খেলোয়াড়দের পারস্পরিক বোঝাপড়া ছিল অসাধারণ। দলগত ফুটবলের কারণেই স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে এতটা প্রভাব বিস্তার করা সম্ভব হয়েছে।
এই জয়ের ফলে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপপর্ব শেষ করেছে তারা। একই গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছে মরক্কো। গ্রুপসেরা হওয়ার সুবাদে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে ব্রাজিল। নেইমারের প্রত্যাবর্তন, আক্রমণভাগের ধারাবাহিকতা এবং দলের বাড়তে থাকা আত্মবিশ্বাস—সব মিলিয়ে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তিরা।