দেশীয় মোটরযান শিল্পের বিকাশ এবং পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে গাড়ি ঋণের শর্তে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনায় সাধারণ ব্যক্তিগত গাড়ির পাশাপাশি বৈদ্যুতিক, হাইব্রিড ও দেশে উৎপাদিত যানবাহন কেনার ক্ষেত্রে ঋণ সুবিধা আরও বাড়ানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণ ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার জন্য একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব ও দেশীয়ভাবে উৎপাদিত বা সংযোজিত গাড়ির ক্ষেত্রে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ লাখ টাকা।
শুধু ঋণের পরিমাণই নয়, গ্রাহক ও ব্যাংকের বিনিয়োগ অনুপাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাধারণ গাড়ির ক্ষেত্রে গ্রাহককে মোট মূল্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করতে হবে। তবে বৈদ্যুতিক, হাইব্রিড ও দেশীয় গাড়ির ক্ষেত্রে ব্যাংক তুলনামূলক বেশি অর্থায়ন করবে, ফলে ক্রেতাদের আর্থিক চাপ কমবে। নতুন নীতিমালায় ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে হতো, এখন তা বাড়িয়ে আট বছর করা হয়েছে। এতে মাসিক কিস্তির চাপ কমবে এবং আরও বেশি মানুষ গাড়ি কেনার সুযোগ পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশীয় যানবাহন উৎপাদন খাতকে উৎসাহ দেওয়া, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের জন্য অর্থায়ন সহজ করা। বিশ্লেষকদের মতে, ঋণের সীমা বৃদ্ধি ও পরিশোধের সময় বাড়ানোর ফলে দেশের অটোমোবাইল বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ির চাহিদাও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।