রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খেলার মাঠের অভাবে শিশু-কিশোরদের মধ্যে মোবাইল, ট্যাব ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে

১৫ হাজারের বেশি স্কুলে নেই খেলার মাঠ, ডিভাইসে আসক্তি বাড়ছে শিক্ষার্থীদের

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১ জুলাই ২০২৬, দুপুর ১০:২৪ সময় , আপডেট সময় : ১ জুলাই ২০২৬, দুপুর ১০:২৪ সময়

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খেলার মাঠের অভাবে শিশু-কিশোরদের মধ্যে মোবাইল, ট্যাব ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, মাঠের সংকট শুধু খেলাধুলার সুযোগই কমিয়ে দিচ্ছে না, বরং শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, দেশে হাজার হাজার সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজস্ব খেলার মাঠ নেই। বিশেষ করে নগরাঞ্চলের অধিকাংশ বেসরকারি স্কুল সীমিত জায়গা, ভবন বা বাণিজ্যিক স্থাপনায় পরিচালিত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।


অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুলে মাঠ নেই, বাসার আশপাশেও উন্মুক্ত খেলার জায়গা কমে গেছে। ফলে শিশুরা অবসর সময়ের বড় অংশ কাটাচ্ছে স্মার্টফোন, ট্যাব, টেলিভিশন কিংবা কম্পিউটারের পর্দার সামনে। এতে তাদের সামাজিক মেলামেশা কমছে এবং প্রযুক্তিনির্ভরতা বাড়ছে। শিক্ষাবিদদের মতে, একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পাঠদানের পাশাপাশি খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সুযোগ থাকা অপরিহার্য। মাঠের অভাবে শিশুদের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক স্বাস্থ্য, নেতৃত্বগুণ ও সৃজনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।


সরকারি নীতিমালায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলার মাঠের ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক হলেও বাস্তবে অনেক প্রতিষ্ঠান এই শর্ত পূরণ করছে না। এমনকি যেসব প্রতিষ্ঠানে মাঠ রয়েছে, সেখানেও অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য মাঠ উন্মুক্ত রাখা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, রাজধানীর শিশুদের একটি বড় অংশ প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করছে। এর ফলে ঘুমের সমস্যা, স্থূলতা, চোখের জটিলতা, মাথাব্যথা এবং মানসিক চাপের মতো সমস্যা বাড়ছে।


নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, একটি আধুনিক শহরে পর্যাপ্ত খোলা জায়গা ও খেলার মাঠ থাকা জরুরি। কিন্তু রাজধানীতে প্রয়োজনের তুলনায় মাঠের সংখ্যা অনেক কম। ফলে শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার পরিবেশ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক মাঠ নিশ্চিত করা, বিদ্যমান মাঠ সংরক্ষণ করা এবং ছুটির সময়ে সেগুলো শিশুদের জন্য উন্মুক্ত রাখার কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আগামী প্রজন্ম আরও বেশি প্রযুক্তিনির্ভর ও শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯