নতুন অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূল্যস্ফীতির চাপ এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় নীতি সুদহার

বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১ জুলাই ২০২৬, দুপুর ১০:২৫ সময় , আপডেট সময় : ১ জুলাই ২০২৬, দুপুর ১০:২৫ সময়

নতুন অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূল্যস্ফীতির চাপ এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না। একদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধি—এই দুই লক্ষ্য একসঙ্গে অর্জন করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


নতুন মুদ্রানীতিতে আন্তঃব্যাংক ঋণ ও আমানতের বিভিন্ন সুদহারও আগের অবস্থায় বহাল রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, কঠোর কিন্তু ভারসাম্যপূর্ণ এই নীতির ফলে আগামী কয়েক মাসে মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে কমবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক গতি ফিরবে। মুদ্রানীতিতে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যকে সমর্থন করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে অর্থ সরবরাহ নিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে।


এদিকে খেলাপি ঋণ কমাতে আগামী ১৮ মাসের জন্য বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর্থিক সংকটে থাকা কিন্তু ব্যবসা পরিচালনায় সক্ষম ঋণগ্রহীতাদের জন্য এককালীন অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে ঋণ নিষ্পত্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে আগের মতো ঋণ পুনঃতফসিলের ওপর নির্ভরতা কমানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নীতি অনুসরণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।


একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের অংশ হিসেবে নতুন আর্থিক আইন প্রণয়নের প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে ঋণ আদায় প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং সমস্যাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নতুন কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছর বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ধীরে ধীরে বাড়বে। পাশাপাশি সরকারি খাতে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনারও লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রপ্তানি আয় এবং প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক সম্পদ পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯