স্বপ্নের বিশ্বকাপ যাত্রা আর দীর্ঘায়িত হলো না বসনিয়া-হার্জেগোভিনার। নিজেদের মাঠে দারুণ ফুটবল উপহার দিয়ে বসনিয়াকে ২-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের এক পর্যায়ে ১০ জনের দলে পরিণত হলেও জয় ছিনিয়ে নিতে কোনো সমস্যা হয়নি তাদের। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। বলের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণের গতি এবং মাঠের দখল—সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময় প্রতিপক্ষকে চাপে রাখলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় বিরতির ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্ত।
ম্যাচের ৪৫তম মিনিটে মালিক টিলম্যানের তৈরি করা আক্রমণ থেকে গোলের দেখা পায় যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল চলে যায় ফ্লোরিয়ান বালোগানের সামনে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন তিনি। এক গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় বসনিয়া। তবে ৫২তম মিনিটে চোটের কারণে মাঠ ছাড়েন তাদের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ফুটবলার এডিন জেকো, যা দলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে।
এরপর ৬৫তম মিনিটে বড় বিপদে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ভিডিও সহকারী রেফারির সহায়তা নিয়ে বালোগানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফলে বাকি সময় ১০ জন নিয়েই খেলতে হয় স্বাগতিকদের। সংখ্যাগত সুবিধা পেলেও সেটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় বসনিয়া। একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পায়নি তারা। উল্টো কম খেলোয়াড় নিয়েও পাল্টা আক্রমণে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র।
৭৯তম মিনিটে জালেও বল পাঠিয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়। কিন্তু হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ম্যাচের ৮২তম মিনিটে অসাধারণ এক ফ্রি-কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মালিক টিলম্যান। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর দুর্দান্ত শট গোলরক্ষককে কোনো সুযোগ না দিয়েই জালে আশ্রয় নেয়। টিলম্যানের সেই চোখধাঁধানো গোলের পর ম্যাচে আর ফেরার সুযোগ পায়নি বসনিয়া। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে। এদিকে শেষ আটের লড়াইয়ে আগামী ৭ জুলাই বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা। ফলে বিশ্বকাপে দুই দলের মধ্যকার জমজমাট এক লড়াই দেখার অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।