স্বাধীনতার আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ইস্টার্ন ব্যাংকিং করপোরেশনের (বর্তমানে উত্তরা ব্যাংক) ৪০টি শেয়ার ছিল। পরবর্তীতে এই শেয়ার সংখ্যা দাঁড়ায় ২০০টিতে। বোনাস লভ্যাংশ পেয়ে বর্তমানে সেই শেয়ারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৪৭,০০০টি।
মঙ্গলবার এই শেয়ারগুলোর মালিকানা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উত্তরসূরীদের অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার নামে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, উত্তরা ব্যাংক সিকিউরিটিজে তাদের দুজনের নামে বিও একাউন্ট খোলা হয়েছে। সেই একাউন্টে শেয়ারগুলো জমা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, জাতির পিতার উত্তরা ব্যাংকের ৪০টি শেয়ার বর্তমান সংখ্যায় লভ্যাংশসহ তার যোগ্য উত্তরসূরীদের বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর হাতে শেয়ারগুলোর মালিকানা হস্তান্তর করতে পেরে আমরা দায়মুক্ত হলাম।
এদিকে, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়ে সবসময়ই আপডেট তথ্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের দিকনির্দেশনা দেয়ার নজিরও রয়েছে তার। দেশের পুঁজিবাজারকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে গত দেড় দশক ধরে কাজ করছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। এরইমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রোড শো আয়োজন করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
এর মাধ্যমে ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে শুরু করেছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া, আরও অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য অপেক্ষায় আছে। যে কোনো সময় দেশের পুঁজিবাজারে তাদের বিনিয়োগ যুক্ত হতে পারে।
এর আগে, গত ২৩ অগাস্ট দক্ষিণ আফ্রিকার জোহান্সবার্গের রেডিসন ব্লু হোটেল অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড বিজনেস সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য পুঁজিবাজারকে উন্নীত করছে।
ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, আর্থিক অগ্রগতির জন্য আমরা আমাদের বন্ড বাজার সম্প্রসারণ করেছি। একই সঙ্গে, সুকুক, গ্রিন বন্ড, ইটিএফ, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, প্রাইভেট ইক্যুইটি ও ইমপ্যাক্ট ফান্ড চালু করেছি। শিগগিরই, আমরা আমাদের পুঁজিবাজারে মৌলিক নয় এমন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করতে যাচ্ছি, যা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিনিয়োগের ঝুঁকি হ্রাস করতে সহায়তা করবে।