প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হেনেছে ভয়াবহ সুপার টাইফুন। শক্তিশালী এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার বেগে প্রবল বাতাস এবং প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইছে। মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর উপকূলীয় এলাকাগুলোর জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, এই ঝড়ের কারণে সমুদ্রে প্রায় ১১ মিটার বা ৩৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হতে পারে, যা উপকূলীয় এলাকায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইতোমধ্যেই ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঝড়ের তাণ্ডবে বহু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কয়েক মাস আগেই একই অঞ্চলে আরেকটি শক্তিশালী টাইফুন আঘাত হেনেছিল। সেই ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন এই দুর্যোগে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঝড় আঘাত হানার আগেই গুয়ামের হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন। জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় উদ্ধার তৎপরতার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর যৌথ টাইফুন সতর্কীকরণ কেন্দ্র এই ঘূর্ণিঝড়কে আনুষ্ঠানিকভাবে সুপার টাইফুন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শক্তিশালী টাইফুনের সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়ছে। একই সঙ্গে এল নিনোর প্রভাবও এমন ভয়াবহ ঝড় সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
সূত্র: বিবিসি