২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬-তে এক অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে আর্জেন্টিনা। দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে এই জয়ের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল অধিনায়ক Lionel Messi-র। মাত্র ২৫৯ সেকেন্ডে একটি অ্যাসিস্ট ও একটি দুর্দান্ত গোল করে তিনি বদলে দেন ম্যাচের পুরো চিত্র।
ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। একটি পেনাল্টি মিস করেন মেসি। তাঁর একাধিক পাস প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ আটকে দেয়, ড্রিবলিংয়েও দেখা যাচ্ছিল না পরিচিত ধার। এ সুযোগে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মিশর। তখন মনে হচ্ছিল, বড় অঘটন ঘটিয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিদায় নিশ্চিত করতে যাচ্ছে আফ্রিকার দলটি।
কিন্তু এরপরই শুরু হয় মেসির জাদু।
প্রথম মুহূর্ত: নিখুঁত অ্যাসিস্ট
ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে অসাধারণ একটি ক্রস বাড়িয়ে দেন মেসি। বলটি নিখুঁতভাবে খুঁজে নেয় Cristian Romero-কে। কাছ থেকে হেড করে ব্যবধান ২-১ করেন রোমেরো। সেই গোলে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয় মুহূর্ত: অতীতের মেসির প্রত্যাবর্তন
প্রথম গোলের তিন মিনিট পরই দেখা যায় চেনা মেসিকে। টাচলাইন থেকে বল নিয়ে একের পর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। গতির সঙ্গে নিখুঁত বল নিয়ন্ত্রণে মিশরের রক্ষণভাগকে পুরোপুরি এলোমেলো করে দেন। প্রায় গোললাইনের কাছ থেকে তিনি দারুণ একটি বল বাড়িয়ে দেন Lautaro Martínez-এর উদ্দেশে। যদিও মার্টিনেজ সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি, তবু তখনই স্পষ্ট হয়ে যায়—মেসি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন।
তৃতীয় মুহূর্ত: বিশ্বমানের এক গোল
৮৩তম মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ডিফ্লেক্ট হয়ে আসা বল বক্সের ভেতরে পেয়ে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করেননি মেসি। বাঁ পায়ের দুর্দান্ত ভলিতে বল পাঠিয়ে দেন জালে। শটটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে মিশরের গোলরক্ষক Mostafa Shoubir-এর কিছুই করার ছিল না।
মুহূর্তেই ২-২ সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা।
এরপর ম্যাচের শেষদিকে জয়সূচক গোল করেন Enzo Fernández। তবে স্কোরশিটে তাঁর নাম থাকলেও, আর্জেন্টিনার এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের ভিত্তি গড়ে দেন মেসিই।
মাত্র চার মিনিট ১৯ সেকেন্ড—অর্থাৎ ২৫৯ সেকেন্ডে—একটি অ্যাসিস্ট, একটি গোল এবং একের পর এক দুর্দান্ত আক্রমণে তিনি আবারও প্রমাণ করেন, বড় মঞ্চে কেন তাঁকে এখনও বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার বলা হয়।
২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার জয় তাই শুধু একটি ম্যাচ জয়ের গল্প নয়; এটি লিওনেল মেসির অদম্য মানসিকতা, নেতৃত্ব এবং অসাধারণ ফুটবল প্রতিভার আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়।