যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিমান হামলা এবং ইরানের তেল রপ্তানিতে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা জারির পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাবে বুধবার (৮ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় দুই শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে তেহরানের অপরিশোধিত তেল বিক্রির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞাও কার্যকর করেছে ওয়াশিংটন।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৭৫ দশমিক ৫৪ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও প্রায় একই হারে বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭১ দশমিক ৮১ ডলারে লেনদেন হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ, বৈশ্বিক তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এ অঞ্চলে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে, যার প্রভাব সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে পড়ে।
এদিকে বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে কৌশলগত মজুত থেকে তেল ব্যবহার করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুতও কমে আসছে, যা দামের ওপর আরও ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি করছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে আগামী দিনগুলোতেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স