হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগের পর ইরানের অপরিশোধিত তেল বিক্রির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ওয়াশিংটনের এ ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য ইরানকে পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়ার আশঙ্কায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ থেকেই বাজারে এ ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। এর আগে দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির জন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অনুমোদন দিয়েছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্তে সেই সময়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বুধবার (৮ জুলাই) দেশটির বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা চালানো হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক এলাকাসহ কয়েকটি স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই রাতভর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন পরিস্থিতিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দুই দেশের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এর আরও বড় প্রভাব পড়তে পারে।