সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শেষ ধাপে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হলেও এখন অর্থমন্ত্রীর সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছে প্রস্তাবটি। অনুমোদন মিললেই তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই নবম পে-স্কেলের সুপারিশ মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য অর্থ বিভাগকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কমিটির সুপারিশ আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল। বিচার বিভাগ-সংক্রান্ত কিছু কারিগরি বিষয় নিষ্পত্তির জন্য অতিরিক্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অর্থমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়ার পরই প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার কাছে পাঠানো হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে চলতি অর্থবছরে মূল বেতন কার্যকর করা হবে। পরবর্তী অর্থবছর থেকে বিভিন্ন ভাতা যুক্ত করা হবে, যা অষ্টম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ধারা অনুসরণ করবে।
কমিটির সুপারিশে ১ থেকে ১০ গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত এবং ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন গড়ে প্রায় ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা মূল বেতনের ওপর ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা এবং ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পাচ্ছেন। নতুন পে-স্কেলে এই বিদ্যমান সুবিধাগুলো সমন্বয় করে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। ফলে বর্ধিত বেতন হাতে পেতে কিছুটা অপেক্ষা করতে হতে পারে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা ও পেনশন বাবদ সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।