প্রশান্ত মহাসাগরে সাবমেরিন থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিরল পরীক্ষা চালিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক মহলের নজরে এসেছে চীন। বেইজিংয়ের এই পদক্ষেপকে দেশটির ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন হিসেবে দেখছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা। একই সঙ্গে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, একটি নকল যুদ্ধাস্ত্র বহনকারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আন্তর্জাতিক জলসীমার দিকে উৎক্ষেপণ করা হয় এবং সেটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি কোথায় গিয়ে পড়েছে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মূল্যায়ন অনুযায়ী, চীন দীর্ঘদিন ধরেই পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম সাবমেরিন মোতায়েন করে আসছে। যদিও এ বিষয়ে বেইজিং আনুষ্ঠানিকভাবে খুব কম তথ্য প্রকাশ করেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সাম্প্রতিক এই পরীক্ষা চীনের সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার অংশ। বিশ্লেষকদের মতে, পরীক্ষায় দীর্ঘপাল্লার সাবমেরিনভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম, যা চীনের কৌশলগত প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই চীন তার পারমাণবিক সক্ষমতা দ্রুত বাড়াচ্ছে। পেন্টাগনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। এদিকে চীনের সামরিক তৎপরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। দুই দেশই বলেছে, দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সময় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু চীনের সামরিক সক্ষমতার বার্তাই নয়, বরং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিতও দিচ্ছে।