টানা বৃষ্টিপাত, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সিলেট বিভাগের কয়েকটি জেলায় ইতোমধ্যে অস্থায়ী বন্যা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। বঙ্গোপসাগরে নতুন একটি মৌসুমি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগ এবং ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে পাহাড়ি ঢল নেমে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, ফেনী, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের নদীসংলগ্ন এলাকাগুলোও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর এবং কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পানি বৃদ্ধি ও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, কুশিয়ারা, মনু ও খোয়াই নদীর একাধিক পয়েন্টে পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে তিস্তা, সুরমা, কুশিয়ারা, সোমেশ্বরী ও ছোট ফেনী নদীর বেশ কয়েকটি স্টেশনে পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি রয়েছে।
তবে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃষ্টির পরিমাণ কমতে শুরু করলে নদীর পানিও ধীরে ধীরে কমবে। তাদের আশা, রবিবার থেকে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বৃষ্টির তীব্রতা ধীরে ধীরে কমতে পারে। যদিও এর আগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থায় নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।