২০২৬ বিশ্বকাপে হতাশাজনক বিদায়ের পর ব্রাজিল ফুটবলে শুরু হয়েছে তীব্র আত্মসমালোচনা। টানা ছয় বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় এবার জাতীয় দলের কোচের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন সাবেক বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ফুটবলার রোমারিও। তার মতে, বর্তমান কোচিং স্টাফের অধীনে ব্রাজিলের ফুটবল তার ঐতিহ্য ও পরিচয় হারিয়ে ফেলেছে। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে রোমারিও বলেন, তিনি যদি ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হতেন, তাহলে বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পরই কোচের চুক্তি বাতিল করতেন। তার ভাষায়, এমন পারফরম্যান্সের পর দায়িত্বে থাকার কোনো সুযোগ নেই এবং ব্রাজিলের মতো দলের জন্য এই বিদায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
রোমারিওর অভিযোগ, পুরো টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের খেলায় ছিল না আগের সেই আক্রমণাত্মক ছন্দ, সৃজনশীলতা কিংবা ম্যাচের ভেতরে কৌশলগত পরিবর্তনের সক্ষমতা। খেলোয়াড়দের সামর্থ্য থাকলেও তা সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে তিনি শুধু কোচ নন, খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, দলের সামগ্রিক পরিকল্পনা, একাদশ নির্বাচন এবং কোচিং কাঠামো—সব ক্ষেত্রেই পরিবর্তন প্রয়োজন।
রোমারিও আরও বলেন, ব্রাজিলের জার্সি শুধু একটি ফুটবল দল নয়, এটি কোটি মানুষের আবেগ ও গৌরবের প্রতীক। সেই জার্সি পরে মাঠে নেমে যদি লড়াইয়ের মানসিকতাই দেখা না যায়, তাহলে সমর্থকদের হতাশ হওয়াই স্বাভাবিক। কিংবদন্তি এই তারকার মন্তব্যের পর ব্রাজিলের ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেউ তার বক্তব্যকে সমর্থন জানালেও, অনেকে মনে করছেন ব্যর্থতার দায় শুধু কোচের নয়; খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দুর্বলতাও সমানভাবে দায়ী। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর এখন ব্রাজিল ফুটবলের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—সাম্বা ফুটবল কি আবারও আগের গৌরব ফিরিয়ে আনতে পারবে, নাকি পরিবর্তনের জন্য বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হবে?