ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৬৪-তে উন্নীত করার প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে ফিফার সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো বিস্তারিত আলোচনা করবে বলে জানান তিনি। বর্তমান বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে। তবে ২০৩০ সাল থেকে নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আরও ১৬টি দল বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। এতে ফিফার সদস্য দেশগুলোর অনেক বেশি জাতীয় দল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।
ইনফ্যান্তিনোর মতে, ৪৮ দলের বিশ্বকাপ সফল হওয়ায় আরও বেশি দেশকে সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা হচ্ছে। তিনি বলেন, এতে তুলনামূলক ছোট ফুটবল শক্তিগুলোও বিশ্বকাপে খেলার লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও উন্নয়নে উৎসাহিত হবে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বকাপ শুধু কয়েকটি অঞ্চলের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের ফুটবল উৎসব। ৬৪ দলের বিশ্বকাপের ধারণাটি প্রথম উত্থাপন করেন উরুগুয়ের প্রতিনিধি ইগনাসিও আলোনসো। পরে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থার সভাপতি আলেহান্দ্রো ডোমিঙ্গেসও এই প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, বিশ্বকাপের শতবর্ষের আসরে ৬৪ দলের টুর্নামেন্ট হলে সেটি হবে স্মরণীয় এক আয়োজন।
২০৩০ সালের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে তিন মহাদেশের ছয়টি দেশে। উদ্বোধনী ম্যাচগুলো হবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে। আর বাকি অধিকাংশ ম্যাচ আয়োজন করবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। নতুন ফরম্যাট অনুমোদন পেলে আয়োজক দেশগুলোর ভূমিকা নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে এই প্রস্তাব নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। ইউরোপীয় ফুটবলের শীর্ষ সংস্থার সভাপতি আলেকসান্দার চেফেরিন মনে করেন, ৬৪ দলের বিশ্বকাপ হলে টুর্নামেন্টের মান ও বাছাইপর্বের গুরুত্ব কমে যেতে পারে। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থার সভাপতিও।