ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তামিলনাড়ুতে গরু ও বাছুর জবাই নিয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে। সোমবার (১৩ জুলাই) দেওয়া এই আদেশে সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, হাইকোর্টের আগের নির্দেশে আইনি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে যায় তামিলনাড়ুর সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, রাজ্যের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্ত ও নির্ধারিত স্থানে কিছু শ্রেণির গরু জবাইয়ের অনুমতি রয়েছে। তাই সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ বর্তমান আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এর আগে গত ২৭ মে মাদ্রাজ হাইকোর্ট ১৯৭৬ সালের একটি সরকারি আদেশের ভিত্তিতে রাজ্যজুড়ে গরু জবাই কার্যত নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল। আদালত সেই রায়ে ভারতীয় সংবিধানের ৪৮ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে গবাদিপশু সংরক্ষণ এবং দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরেছিল। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন জানায়, তামিলনাড়ুতে দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতি অনুসরণ করে নির্ধারিত নিয়মে পশু কোরবানি ও বলির প্রচলন রয়েছে। তাদের দাবি, সব ধরনের পশু জবাই শুধুমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইখানায় সীমাবদ্ধ করা বাস্তবসম্মত নয়, বিশেষ করে উৎসবের সময়।
রাজ্য সরকারও আদালতে জানায়, তামিলনাড়ুর প্রচলিত পশু সংরক্ষণ আইন ও কসাইখানা-সংক্রান্ত বিধিমালায় পশু জবাইয়ের স্থান, পদ্ধতি ও শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, কিন্তু সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার কোনো বিধান নেই। সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ আদেশের ফলে আপাতত মাদ্রাজ হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে না। মামলার চূড়ান্ত শুনানিতে বিষয়টির আইনি বৈধতা নিয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।