আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা, তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিক্রির চাপ বেড়ে যাওয়ায় একদিনেই স্বর্ণের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। এর প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম নেমে এসেছে প্রায় ৩ হাজার ৯৯৭ ডলারে, যা চলতি মাসের শুরুর পর সর্বনিম্ন অবস্থান। একই সঙ্গে স্বর্ণের ফিউচার বাজারেও উল্লেখযোগ্য দরপতন হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এতে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে কিংবা আরও বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে। আর উচ্চ সুদের পরিবেশ সাধারণত স্বর্ণের বাজারের জন্য নেতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্লেষকদের ধারণা, বিক্রির চাপ অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমতে পারে। একই সময়ে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মতো অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
এদিকে বিশ্ববাজারে দামের পতনের কারণে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তন বিবেচনায় যেকোনো সময় নতুন মূল্যতালিকা ঘোষণা করা হতে পারে। এরই মধ্যে সর্বশেষ ঘোষণায় দেশের বাজারে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে চলমান দরপতন অব্যাহত থাকলে দেশীয় বাজারেও আরও মূল্য সমন্বয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স