দেশের স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও জনবল সংকটের চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, পরিকল্পনা ছাড়াই বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনায় অনেক মূল্যবান যন্ত্রপাতি বছরের পর বছর ব্যবহারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর বড় ধরনের শূন্যপদ থাকায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন হাসপাতালে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত না করেই ব্যয়বহুল চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হয়েছিল। ফলে অনেক যন্ত্র এখনো ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। কোথাও যন্ত্র রয়েছে, কিন্তু পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান নেই; আবার কোথাও ল্যাব স্থাপন হলেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সেগুলো কার্যকর করা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে অনুমোদিত চিকিৎসকের ৯ হাজার ৪০৭টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া নার্সের ৪ হাজার ৫৭৭টি এবং স্বাস্থ্যকর্মীর ১৮ হাজার ৯৪৭টি পদও এখনো পূরণ হয়নি। এই জনবল সংকট স্বাস্থ্যসেবার ওপর বড় চাপ তৈরি করছে। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী জানান, দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ মানসিক সমস্যায় ভুগলেও অধিকাংশই চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন না। জনসংখ্যার তুলনায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে সরকার প্রতিটি উপজেলা সদরে ১০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে ল্যাবরেটরি, এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং আত্মহত্যা প্রতিরোধে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।