গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসা এক ব্যক্তিকে প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন ও অর্থপাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। তদন্ত সংস্থার দাবি, তার নামে পরিচালিত একাধিক ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব পর্যালোচনা করে কয়েক বছরের মধ্যে প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার জমা ও উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব অর্থের বৈধ উৎসের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়েছে, সংঘবদ্ধ একটি চক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহ, স্থানান্তর এবং প্রকৃত উৎস গোপন করে বিভিন্ন সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগের তদন্ত চলছে। এ ছাড়া কয়েকজন ব্যক্তি ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছাড়াই তার বিভিন্ন হিসাবে বড় অঙ্কের অর্থ জমা দিয়েছেন, যা তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অর্থের প্রকৃত উৎস, সম্ভাব্য সহযোগী, অর্থপাচারের নেটওয়ার্ক এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হবে।
এর আগে তিনি নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরে নিজ এলাকায় ফিরে একটি মন্দির সংস্কার ও সেখানে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পর দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে অভিযুক্ত, দোষী সাব্যস্ত নন।