দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে গত আড়াই মাসে প্রায় ৩৩ হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। একই সময়ে বিভিন্ন মামলা ও নিয়মিত অভিযানে আরও প্রায় ৮৪ হাজার ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের বিস্তার রোধে এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের শুরু থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৩২ হাজার ৯০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য মামলা ও নিয়মিত অভিযানে আটক হয়েছেন আরও ৮৩ হাজার ৮১৭ জন।
অভিযান চলাকালে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, ম্যাগাজিন, ককটেল, গানপাউডার, দেশীয় অস্ত্র এবং অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে পিস্তল, বন্দুক, রিভলভার, রাইফেল, পাইপগানসহ বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, বিদেশি ও দেশীয় মদ জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১৪ হাজারের বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ২০ হাজারেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেলা পুলিশ, মহানগর পুলিশ, রেঞ্জ, বিশেষায়িত ইউনিট এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ এবং পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতেই এই অভিযানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী দেশব্যাপী এই বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।