টানা ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাটের ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। সোমবার রাতে পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চর এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তার তীরবর্তী বিভিন্ন চরাঞ্চলের রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। অনেক এলাকায় বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করায় পরিবারগুলো দুর্ভোগে পড়েছে। নৌকা ও ভেলাই এখন অনেক গ্রামের একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম। শিশু, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও গৃহপালিত পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন পানিবন্দি মানুষ। পাশাপাশি সাপ ও বিষাক্ত প্রাণীর উপদ্রবও বেড়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সোমবার বিকেল থেকে নদীর পানি অস্বাভাবিক গতিতে বাড়তে থাকে। রাতের মধ্যেই অনেক বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। তাদের আশঙ্কা, পানি আরও বাড়লে বড় ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে প্রবল স্রোতের কারণে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদীতীরবর্তী সড়কগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় বাঁধগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। সময়মতো মেরামত করা হলে বর্তমান ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো বলে তাদের দাবি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, উজানের ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে কয়েকদিন ধরেই তিস্তার পানিপ্রবাহ বাড়ছিল। সোমবার রাতে তা বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপরে উঠে যায়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী কয়েক ঘণ্টা পানির প্রবাহের ওপরই বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপ্তি নির্ভর করবে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া নদীর কাছাকাছি না যাওয়ার এবং নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে।