যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন দলীয় নেতাকর্মী, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সোমবার সন্ধ্যায় খাজুরা বাজার তেলপাম্প এলাকার যশোর-মাগুরা মহাসড়কে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এতে শতাধিক মানুষ অংশ নিয়ে হত্যার বিচার দাবি করেন। বিক্ষোভ চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ক্ষুব্ধ জনতা হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে বাইরে থেকে পণ্যবাহী গাড়ি চালিয়ে এলাকায় ফেরার পর নিহত যুবদল নেতা একটি তেলপাম্পের পাশে যান। পরে সড়কে যাওয়ার সময় কয়েকজন তার পথরোধ করে। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পরিবারের দাবি, আগের একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। নিহতের স্বজনদের আরও দাবি, হামলায় একাধিক ব্যক্তি অংশ নিয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। প্রধান অভিযুক্ত পলাতক থাকলেও তাকে গ্রেপ্তারে একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।