বরিশাল বিভাগের নদ-নদীগুলোতে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অমাবস্যার প্রভাব ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে ইতোমধ্যেই আটটি প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এর ফলে উপকূলীয় বিভিন্ন নিচু এলাকা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দিন ধরে জোয়ারের সময় কীর্তনখোলা, সুগন্ধা, বিষখালী, তেঁতুলিয়া, মেঘনা-সুরমা, বলেশ্বর, শ্রীমন্ত ও কঁচা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও ঝালকাঠির উপকূলীয় এলাকার অনেক নিচু অঞ্চল ইতোমধ্যে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি, তবে আগামী দুই দিনের মধ্যে আরও কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বরিশাল নগরসংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনা ও পটুয়াখালীর বিভিন্ন নদীতেও বিপৎসীমা অতিক্রম করে পানি প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ অবস্থান করছে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর এবং নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি থেমে থেমে বৃষ্টিপাতও অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, লঘুচাপটি যদি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়, তাহলে নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। সেক্ষেত্রে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।