মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, স্পষ্ট রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক

ইরান ইস্যুতে আরেকটি ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধের’ ঝুঁকিতে ট্রাম্প

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৮ জুলাই ২০২৬, সকাল ৯:২৮ সময় , আপডেট সময় : ১৮ জুলাই ২০২৬, সকাল ৯:২৮ সময়

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, স্পষ্ট রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কৌশল ছাড়া এই সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও পড়বে। বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে, দ্রুত শেষ হবে এমন ধারণা নিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত বছরের পর বছর ধরে চলেছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর আফগানিস্তান ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ সামরিক অভিযানের অভিজ্ঞতা সেই বাস্তবতারই উদাহরণ।


সমালোচকদের ভাষ্য, নির্বাচনী প্রচারণায় যুদ্ধ নয়, বরং সংঘাতের অবসানের প্রতিশ্রুতি দিলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন এক সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছেন, যা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে রূপ নিতে পারে। তাদের মতে, ইরানের সরকার পরিবর্তন কিংবা পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের মতো ঘোষিত লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয়নি। বরং যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়া এবং হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।


আন্তর্জাতিক সংকট বিশ্লেষকদের একজন বলেন, সাময়িক সমঝোতা কোনো পক্ষই স্থায়ী শান্তির ভিত্তি হিসেবে দেখেনি। বরং উভয় পক্ষ সেটিকে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার একটি সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধানের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। যুদ্ধক্ষেত্রের সাফল্যকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অর্জনে রূপ দিতে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। অন্যথায় সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।


বিশ্লেষকদের দাবি, অতীতেও আফগানিস্তান ও ইরাকে সামরিক সাফল্যের পর স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চলার পর বিপুল অর্থ ব্যয় ও প্রাণহানির মধ্যেও প্রত্যাশিত ফল অর্জন করা সম্ভব হয়নি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের অবস্থান ক্রমেই কঠোর হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় পরিসরে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রকে।


তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা খুবই সীমিত। দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার সংকট গভীর হওয়ায় যেকোনো সময় নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়তে পারে। সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য আরও একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের দিকে এগিয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯