মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। ইরানের অভ্যন্তরে একাধিক কৌশলগত সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে টানা সপ্তম রাতের মতো বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ইরানের ওপর সামরিক ও নৌচাপ অব্যাহত থাকবে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, যুদ্ধজাহাজ এবং অন্যান্য আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে ইরানের উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক লজিস্টিক স্থাপনা, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রাগার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ এই অভিযান পূর্বাঞ্চলীয় সময় ১৭ জুলাই রাতে সম্পন্ন হয়। অভিযানে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেছে সেন্টকম। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশনায় ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের বাণিজ্যিক ও সামরিক বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধও কার্যকর রাখা হয়েছে। ওয়াশিংটনের ভাষ্য, তেহরান শান্তি-সংক্রান্ত শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত এই চাপ কমানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।
মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতির বিষয়টিও তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টকম জানিয়েছে, বর্তমানে পুরো অঞ্চলে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছেন। তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত আছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিক এই সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
সূত্র: আল জাজিরা।