পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে চলমান সহিংসতা এবং বেলুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একদিকে কাশ্মীরে বিক্ষোভে প্রাণহানার ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ, অন্যদিকে বেলুচিস্তানে সেনা বহরে বড় ধরনের হামলার দাবি করেছে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক বলেছেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে বেসামরিক মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর ঘটনাগুলোর দ্রুত, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তার মতে, ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
গত মাস থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিতব্য আঞ্চলিক নির্বাচনকে ঘিরেও উত্তেজনা বাড়ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আন্দোলনকারীদের একটি জোট বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। শুরুতে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও সেবার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে কর্মসূচি শুরু হলেও পরে কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আইনসভা আসনকে কেন্দ্র করে বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের দাবি, এসব সংরক্ষিত আসন স্থানীয় রাজনৈতিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলছে।
এদিকে আন্দোলনকারী সংগঠনটিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মতে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ বা মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রয়োগ এবং ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া নাগরিক অধিকার ও সংগঠন করার স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক। অন্যদিকে বেলুচিস্তানে পাকিস্তানের একটি সেনা বহরে হামলার দায় স্বীকার করেছে বেলুচ লিবারেশন আর্মি। সংগঠনটির দাবি, হামলায় ৪৫ জন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে এই সংখ্যা পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
গোষ্ঠীটির দাবি অনুযায়ী, বিস্ফোরকবোঝাই একটি যান সেনা বহরে আঘাত হানার পর স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলি চালানো হয়। হামলার পর ঘটনাস্থলে তীব্র গোলাগুলির সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে ২৪ জন সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়েছেন। সেনাবাহিনীর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার জবাব হিসেবেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কাশ্মীরে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বেলুচিস্তানে সশস্ত্র হামলার ধারাবাহিকতা পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।