সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার বানিয়াগাঁতী গ্রামের এক বৃদ্ধ দম্পতির জীবনসংগ্রামের গল্প যেন আমাদের সমাজের এক নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। ৯০

১০ সন্তানের বাবা-মা, তবু জোটে না দুবেলা খাবার; ভাঙা ঘরে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন দম্পতি

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৮ জুলাই ২০২৬, দুপুর ৩:১৯ সময় , আপডেট সময় : ১৮ জুলাই ২০২৬, দুপুর ৩:১৯ সময়

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার বানিয়াগাঁতী গ্রামের এক বৃদ্ধ দম্পতির জীবনসংগ্রামের গল্প যেন আমাদের সমাজের এক নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। ৯০ বছর বয়সী আছাব আলী ও তার ৮০ বছর বয়সী স্ত্রী সালেকা বেগম বার্ধক্য, অসুস্থতা ও চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে দিন কাটাচ্ছেন। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো—পাঁচ ছেলে ও পাঁচ মেয়েসহ ১০ সন্তানের বাবা-মা হয়েও জীবনের শেষ সময়ে তারা নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন প্রতিবেশীদের সহায়তার ওপর।


একসময় কঠোর পরিশ্রম করে সন্তানদের মানুষ করেছেন আছাব আলী। লেখাপড়া করিয়েছেন, বিয়ে দিয়েছেন, সংসার গুছিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বয়সের ভারে যখন তিনি চলাফেরার শক্তিও হারিয়ে ফেলেছেন, তখন সেই সন্তানদের কাছ থেকেই প্রত্যাশিত সেবা ও ভালোবাসা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বর্তমানে আছাব আলী প্রায় শয্যাশায়ী। নিজের কাজ নিজে করতে পারেন না। তার স্ত্রী সালেকা বেগমও নানা রোগে ভুগলেও স্বামীর সেবাযত্ন করে যাচ্ছেন। কখনো স্বামীকে ধরে বাইরে নিয়ে যান, আবার কখনো মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সামান্য সাহায্যের আবেদন করেন, যাতে দুজনের খাবারের ব্যবস্থা হয়।


দম্পতির বসতঘরটিও অত্যন্ত জরাজীর্ণ। টিনের চাল ফুটো হয়ে বৃষ্টির পানি ঘরে পড়ে, নেই ভালো শৌচাগার বা প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র। একটি খাট পর্যন্ত নেই তাদের। বাঁশের তৈরি মাচার ওপর চট বিছিয়েই রাত কাটাতে হয়। বয়স ও অসুস্থতার কারণে প্রতিটি দিন তাদের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবেশীরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করলেও তা দীর্ঘমেয়াদে যথেষ্ট নয়। তারা মনে করেন, এত সন্তান থাকা সত্ত্বেও এই বৃদ্ধ দম্পতির এমন অসহায় জীবন মেনে নেওয়া কষ্টকর। জীবনের শেষ সময়ে তাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল সন্তানের স্নেহ, যত্ন ও নিরাপত্তা।


এদিকে স্থানীয় সমাজকর্মীরা মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন। তাদের জন্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে একটি চলাচল-উপযোগী হুইলচেয়ার বা সহায়ক যান, খাদ্যসামগ্রী এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে।


অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে সালেকা বেগমের একটাই আকুতি—“আমরা আর কিছু চাই না বাবা, শুধু দুবেলা ভাত খেয়ে একটু শান্তিতে বাকি জীবনটা কাটাতে চাই।” স্থানীয় ইউপি সদস্য জানিয়েছেন, সরকারি বয়স্ক ভাতা ও ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তা তারা পাচ্ছেন। তবে তার মতে, সবচেয়ে বড় অভাব সরকারি সহায়তার নয়, বরং সন্তানদের দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসার। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে এই বৃদ্ধ দম্পতির জীবনের শেষ সময়টুকু অন্তত কিছুটা স্বস্তি ও সম্মানের সঙ্গে কাটানো সম্ভব হবে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯